এক সময় ফিলিপ খুব অসুস্থ হন । চিকিৎসক জানান অবস্থা খুব খারাপ । সে সময় তার প্রিয় পুত্র অ্যারিডিয়াস চিন্তা এখন ফিলিপ মারা গেলে ভাল হয় কারণ আলেকজান্ডারের ক্রমাগত সাফল্য আর বাড়তে থাকা জনপ্রিয়তার জন্য প্রজাদের চাপে ফিলিপ তাকে পরবর্তী রাজা ঘোষণা করতে পারেন । যদি এখন তিনি মারা যান তাহলে সম্রাটে জেষ্ঠ্য পুত্র হিসাবে সে সিংহাসন দাবী করতে পারবে । তার মা মহারানী ফিলিনাও একই চিন্তা করলেন ফিলিপ এখনও পরবর্তী শাসক কে হবে ঘোষণা করেননি এখন তিনি মারা গেলে তার ছেলেকে তিনি সিংহাসনে বসাতে পারবেন এবং প্রজাদের দাবী নাকচ করা যাবে । মহারানী ওলম্পিয়াও একই চিন্তা করছিলেন, তিনি দীর্ঘকাল ফিলিপের প্রতি রুষ্ট ছিলেন, তিনি অ্যারিডিয়াসকে নিজের উত্তরাধিকারী হিসাবে চান আর তার ছেলে আলেকজান্ডারের প্রতি উদাসীন তা তিনি ভাল করে জানেন, তাই ফিলিপ মারা গেলে তিনি নিজের ছেলেকে সিংহাসনে বসাতে পারবেন এবং বিরোধীদের ধ্বংস করতে পারবেন । শুধু আলেকজান্ডার নিজের পিতার আরোগ্য কামনা করল নিজের রাজা হওয়ার চিন্তা ছিল । রাজপরিবারের সংস্কার অনুযায়ী তার মনে পিতার প্রতি শ্রদ্ধা ছিল আর পিতৃস্নেহ লাভের সুপ্ত ইচ্ছা ছিল যা তার শৈশব ও কৈশোরে সে যথেষ্ট পরিমাণে পায়নি ।
ফিলিপ ও ওলম্পিয়ার কন্যা এবং আলেকজান্ডারের বোন ক্লিওপেট্রার সাথে ওলম্পিয়ার ভাই ইপিরাসের রাজা প্রথম আলেকজান্ডারের সাথে বিবাহ স্থির করা হল । ওলম্পিয়া ফিলিপের এই সিদ্ধান্তে খুশি ছিলেন না, তবে একদিক দিয়ে সন্তুষ্ট ছিলেন কারণ তার ভাই অবশ্যই তার মেয়ের জন্য একজন ভাল বর, তাছাড়া এতে দুই দেশের ও পরিবারের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে । খ্রিস্টপূর্ব ৩৩৬ অব্দে ম্যাসিডোনিয়ান বর্ষপঞ্জীর ডাইয়োস মাসে অ্যাইগাই শহরে এই বিবাহ অনুষ্ঠানে সম্মিলিত হন ফিলিপ সহ গোটা রাজপরিবার । সেখানে ফিলিপের প্রধান দেহরক্ষী পসানিয়াস অকস্মাৎ তাকে পিছন থেকে আক্রমণ করে ছুঁড়ি দিয়ে পিঠে আঘাত করে হত্যা করে । তারপর সে তার অনুসরণকারীদের হাতে মারা যায়, যার মধ্যে দুজন ছিল আলেকজান্ডারের বন্ধু পারডিকাস ও লিওনাটাস । তখন উপস্থিত অভিজাতবর্গ ও সেনাবাহিনী কর্তৃক ফিলিপের পুত্র আলেকজান্ডার মাত্র কুড়ি বছর বয়সে ম্যাসিডোনিয়ার রাজা ঘোষিত হল । মনে করা হয় ফিলিপের মৃত্যুর পিছনে ওলম্পিয়ার হাত ছিল কারণ ফিলিপ আলেকজান্ডারকে পরবর্তী শাসক হিসাবে নির্বাচন করতে অনিচ্ছুক ছিলেন তার ওলম্পিয়া নিজের পুত্রকে ম্যাসিডোনিয়ার রাজা তথা বিশ্বজয়ী সম্রাট বানাতে উদগ্রীব ছিলেন ।