Se 2 · Ep 2 · দ্বিতীয় পর্ব - বিজয়ের উদযাপন
রাজধানী পেল্লায় ফিরে ফিলিপ তার সেনাপতি অ্যাটালাসের ভাইঝি / ভাগ্নী ক্লিওপেট্রা ইউরিডাইসের প্রেমে পড়ে তাকে বিবাহ করলেন । এটা দেখে মহারানী ওলম্পিয়া ভীষণ ভাবে ক্ষুব্ধ হন । এর ফলে আলেকজান্ডারের ফিলিপের উত্তরাধিকারী হওয়া অসুরক্ষিত হল, কারণ ফিলিপ ও ক্লিওপেট্রার সন্তান সম্পূর্ণ ম্যাসিডোনিয়ান হবে, যেখানে আলেকজান্ডার অর্ধেক ম্যাসিডোনিয়ান, কারণ ক্লিওপেট্রা একজন ম্যাসিডোনিয়ান আর আলেকজান্ডারের মা ওলম্পিয়া ইরিপাসের রাজকন্যা । এমনকি বিবাহের ভোজসভায় সুরার নেশায় আচ্ছন্ন অ্যাটালাস দেবতাদের কাছে প্রার্থনা করেছিলেন এই বন্ধন যেন এক ন্যায়সম্মত উত্তরাধিকারীর জন্ম দেয় । আলেকজান্ডার এটা দেখে ক্রুদ্ধ হয়ে সেখানে থাকা একটা সুরাপাত্র তার মাথায় ছুঁড়ে বলল," এই দুর্বৃত্ত ! আমি কি তাহলে জারজ ?" ফিলিপ এটা দেখে অ্যাটালাসের পক্ষ নিয়ে উঠে দাঁড়ালেন এবং পুত্রের দিকে ধাবিত হলেন । কিন্তু তাদের উভয়েরই সৌভাগ্য ছিল যে অতিরিক্ত ক্রোধ ও মদ্যপানের জন্য ফিলিপ পা পিছলে পড়ে যান । আলেকজান্ডার তার উপহাস করে বলল," এই দেখ, এই লোকটা ইউরোপকে এশিয়ার মধ্যে বিস্তৃত করার প্রস্তুতি নেয় সে এক আসন থেকে অন্য আসনে যেতে গিয়ে উল্টে গেল !"
ফিলিপ ও আলেকজান্ডারের বিপুল জয় এবং ফিলিপের নতুন বিবাহ উপলক্ষে পেল্লার রাজ প্রাসাদে উৎসবের আয়োজন করা হল । রাজপরিবার, আত্মীয় স্বজন, সেনানায়কগণ, নিকট সম্পর্কের অভিজাতবর্গ সকলের সমাগম, সুসজ্জিত রাজসভা, উৎসবের উচ্ছ্বাসে মুখরিত হয়ে উঠল । নাচ গান, মদ্যপান, ভোজসভা, জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠান, ভোগ বিলাসের বিপুল আয়োজন । ফিলিপ সুন্দরী সেবিকাদের দ্বারা পরিবৃত হয়ে মদ্যপানরত, যুবতী প্রমোদ কন্যাদের কোলে নিয়ে, আলিঙ্গন ও চুম্বন করে, তাদের পরিবেশিত চোষকপূর্ণ মধুপানে উল্লাসে মত্ত । ওলম্পিয়া এই দৃশ্য দেখে অত্যন্ত রুষ্ট হলেন, তিনি তার স্বামীর কামুক, সংযমহীন চরিত্র খুব ভাল করে জানেন । তিনিও সুদর্শন যুবক দাসদের সাথে সুরাপানে ও বিলাসে মগ্ন হলেন । অসাধারণ সৌন্দর্য্য ও ব্যক্তিত্বের অধিকারী মধ্যবয়স্কা ওলম্পিয়া, তার অসাধারণ সুন্দর মুখের অভিব্যক্তি, মোহময় চোখের তীক্ষ্ণ কটাক্ষ, চুনির ন্যায় অধরের সূক্ষ্ম হাসির রেখা পুষ্পের দিকে আকৃষ্ট ভ্রমরের মত সেই যুবকদের আকৃষ্ট করল । তার চোখের ভ্রু ইরোসের ধনুকের ন্যায় আর তার কটাক্ষ তার থেকে নিক্ষিপ্ত কামবাণের ন্যায় তাদের বিদ্ধ করল । ফিলিপ সুদর্শন না হলেও সেবিকারা সম্রাটের সেবায় নিয়োজিত কিন্তু ওলম্পিয়া তার রূপে, ব্যক্তিত্বে, মহত্ত্বে শক্তিশালী সম্রাটদেরও বিজয়িনী সাম্রাজ্ঞী । আলেকজান্ডার প্রথমে দেখতে ফিলিপকে, তাকে সেই অবস্থায় দেখে কিঞ্চিত বিব্রত হয়ে ফিরে গিয়ে দেখতে পেল তার মাকে, সে অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করল," আপনি এসব কী করছেন ?" ওলম্পিয়া বললেন," কেন ? দেখ নিজের বাবাকে । ও করতে পারলে আমি কেন পারব না ? ও পুরুষ বলে কি সব বিলাসিতা ও ভোগ করবে ?" আলেকজান্ডারের তার মায়ের যুক্ত ঠিক মনে হল, সে একটু হতাশ হয়ে সেখান থেকে বেরিয়ে এল । রাজমহলে সবাই মদ্যপান ও দাস দাসীদের সাথে বিলাসিতায় মগ্ন ছিলেন । সে অলিন্দে ঘুরে বেরাচ্ছিল । হেফ্যাসটিয়ন তখন সেখানে এসে তাকে বিজয়ের শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করল, সমস্ত যুদ্ধে সে সবসময় আলেকজান্ডারের পাশে ছিল, তাকে সাহায্য করেছে, রক্ষা করেছে, উৎসাহিত করেছে । " তুমি ছাড়া আমার বিজয় অসম্ভব ছিল !" হেফ্যাসটিয়ন তাকে নিয়ে গেল এক সুসজ্জিত কক্ষে । প্রাসাদের দমবন্ধ পরিবেশে আলেকজান্ডারের ভাল লাগছিল না, এখানে এসে সে শান্তি পেল । হেফ্যাসটিয়ন সুরাপাত্র নিয়ে আসল । বর্তমানে তাদের ষোল বছর বয়স, পরিণত যুবক । তবে সম্পূর্ণ পরিণত বয়স্ক পুরুষ নয় । কৈশোরের শেষ প্রান্তে এখনও তাদের মধ্যে লালিত্যের ছাপ আছে, তা তাদের কিঞ্চিত কঠিন অথচ কমনীয় মুখ, তরুণ চোখ, গোলাপের পাপড়ির ন্যায় ঠোঁট, সূক্ষ্ম গোঁফের রেখা, সুগঠিত পেশিময় অথচ নাতিস্থূল কমনীয় দেহাবয়ব আর পরনের স্বল্প দৈর্ঘ্যের চিটোনের মধ্যে সুস্পষ্ট । আলেকজান্ডার সুরার আবেশে আবিষ্ট হল, তারা পরস্পরকে জড়িয়ে ধরল, চুম্বন করল একে অপরের ঠোঁটে । আলেকজান্ডার হেফ্যাসটিয়নের দেহের সুগন্ধে অভিভূত হল, তাকে নিজের কোলে টেনে নিল, মনোরম আতরের সুগন্ধে সিক্ত করল তার দেহ আর সজ্জিত করল প্রিয় সাদা ও গোলাপি রঙের গোলাপের রাশিতে । হেফ্যাসটিয়ন সুখস্পর্শে বিগলিত হল । বিজয়ের গর্বে গর্বিত আলেকজান্ডার আজ দখল করল হেফ্যাসটিয়নের উরুদ্বয়, ঠিক যেভাবে ক্ষুধার্ত সিংহ নিজের শিকারকে অধিকার করে একই সাথে যেভাবে শান্ত হরিণী প্রেম নিবেদন করে নিজের সঙ্গীর কাছে । দুজনে এক সাথে রাত্রি যাপন করল ।